Saturday , October 21 2017
Breaking News
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
Home / রান্না-ঘর / বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী খাবার বিশ্বে তুলে ধরতে চান দিলরুবা

বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী খাবার বিশ্বে তুলে ধরতে চান দিলরুবা

দিলরুবা বেগম ফ্যান্সি, বাংলাদেশের প্রথম সারির একজন রন্ধনশিল্পী। বর্তমানে ব্যস্ততা তার রান্নার স্কুল নিয়ে। রান্না নিয়ে নিয়মিত লিখছেন পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে। এই অবস্থায় আসার পেছনে নিজের গল্প শোনালেন তিনি। ইত্তেফাক অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে উঠে এল তার অতীত, পরিবার, বর্তমান ব্যস্ততা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনার গল্প।

দিলরুবা বলেন, তাদের বাড়িতে সবারই রান্নার হাত ভালো ছিলো। গ্রামের সবাই তার মা, দাদীর রান্নার প্রশংসা করতেন। মায়ের সঙ্গে রান্নায় সাহায্য করতেন ফ্যান্সি। তখন থেকেই রান্না ভালো লাগা। তবে তখনও ভাবেননি একসময় এই নেশাই তার পেশা হবে।

নিজ গ্রাম কুড়িগ্রামেই বড় হয়েছেনর এইচএসসি পরীক্ষার পর ৩ বছর করেছেন সরকারি চাকরিও। কিন্তু বিয়ের পর সংসার সামলানো ও চাকরি করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। চাকরি ছেড়ে চলে আসেন ঢাকায়। আবার পড়াশোনা শুরু করেন।

ইডেন কলেজ থেকে ইসলামিক স্টাডিস বিষয়ে মাস্টার্স শেষ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে করেন এম.এড। কিন্তু সন্তানের জন্য চাকরি করার সুযোগ হয়ে উঠে না। তবে পড়াশোনার ঝোঁক ছিলো সবসময়, ছিলো রান্নার নেশাও।

তাই রান্না নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি হন। নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ে রান্না বিষয়ক একটি কোর্স করেন। সেখানেই চাকরির সুযোগ হয়ে যায়। তিন বছর চাকরি করার পর আবারো সংসারের ব্যস্ততায় ছেড়ে আসেন।

কিন্তু রান্না বিষয়ক কোর্স চালিয়ে যান। একই রান্না শেখেন চার জনের কাছ থেকে। চেষ্টা করেন নিজে নতুন কিছু তৈরির। দিলরুবা বেগম বিশ্বাস করেন, রান্না একটি শিল্প। আর এই শিল্প কত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায় সেই চেষ্টাই করেন সবসময়।

এরপর চিন্তা করেন বাসায় বসেই কিছু করার। সেই থেকেই রান্না নিয়ে শুরু করেন বিভিন্ন রকম পরীক্ষা। পেয়েছেন জাতীয় আচার প্রতিযোগিতার পুরস্কারও।

২০১১ সালে প্রাণ জাতীয় আচার প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন তিনি। এরপর ২০১৬ সালে দ্য বাংলাদেশ মনিটর সেরা রন্ধনশিল্পীতে প্রথম রানার-আপ হন। সেরা রাধুনী ১৪২২ এ ৫ম স্থান অধিকার করেন।

বর্তমানে তার ব্যস্ততা নিজের রান্নার স্কুল নিয়ে। ফ্যান্সি’স কুকিং স্কুল নামে এই প্রতিষ্ঠানে শেখান রান্নার নানা দিক। তিনি বলেন, রান্নার তিনটি বিষয় আছে, ‘আর্ট, কেমিস্ট্রি ও বিজনেস। এই ব্যাপারগুলো মাথায় রেখেই রান্না করতে হয়।’ স্কুলে গরীব শিক্ষার্থীদের টাকা ছাড়া কোর্স করার সুযোগ দেন দিলরুবা। এমনকি কিছু ইন্সট্রুমেন্ট কিনে দেন তাদের সাবলম্বী হওয়ার জন্য।

ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী খাবারকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে চাই। দেশের বিভিন্ন স্থানের ঐতিহ্যবাহী খাবার ফিউশন করে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে চান।

তবে ফিউশন সম্পর্কে তিনি বলেন, “কেউ কোনো ক্যুইজিনের নামে নিজের মত করে ফিউশন করেন অনেকে। সেটি করা ঠিক নয়। যেমন, ইতালির পিজা ওদের মত করে করতে হবে। রান্নার ব্যাকরণ জেনে রান্না করতে হবে।”

তিনি বলেন, বিদেশে রেস্টুরেন্টের নাম থাকে ইন্ডিয়ান ফুড। সেখানে বাংলাদেশি খাবার কিছু পাওয়া যায়। কিন্তু বাংলাদেশি ফুড নামে রেস্টুরেন্ট খুব একটা নেই। সেই অবস্থান তৈরি করারই স্বপ্ন দেখেন দিলরুবা বেগম।

নিজের এই অবস্থানের তিনি পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, পরিবারের সমর্থন ছাড়া এতদূর আসা সম্ভব ছিলো না। বিশেষ করে আমার সন্তানেরা প্রচুর উৎসাহ দেয়।

ভবিষ্যতে রান্না নিয়ে বই প্রকাশ করার ইচ্ছে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখনও সময় আসেনি। আরেকটু সময় নিয়ে বই বের করবো। সঙ্গে টেলিভিশনে রান্না নিয়ে অনুষ্ঠান করারও ইচ্ছে আছে।

Check Also

চেনা ইফতারিতে নতুন স্বাদ

ইফতারের টেবিলে ঐতিহ্যবাহী কিছু খাবারের পদ থাকেই। সেসবের স্বাদে চাইলে একটু নতুনত্ব আনতে পারেন। দেখে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.