Thursday , November 23 2017
Breaking News
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
Home / ফ্যাশন / শীত তাড়াতে শীতপোশাক

শীত তাড়াতে শীতপোশাক

কথায় আছে, মাঘের শীতে বাঘও পালায়। হাড় কাঁপানো শীত পড়েনি এখনো, কিন্তু শীতকাল বলে কথা। বলা তো যায় না, কখন ঠান্ডাটা জাঁকিয়ে বসে। এ কারণেই শিশুদের ক্ষেত্রে ঋতু বুঝে পোশাকের প্রস্তুতিটি আগে নিয়ে রাখলেই ভালো।
শিশুর জন্য শীতপোশাক
ছোটদের শীতপোশাক কেনার সময় হাল আমলের নকশা, রং এবং ফ্যাশনের বিষয়টিও খেয়াল করুন। শীতের আগমন উপলক্ষে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস এবং শপিং মলগুলো নিয়ে এসেছে নিত্যনতুন গরমের পোশাক। আজকাল বিভিন্ন মোটিফের শীতপোশাকও পাওয়া যাচ্ছে বাজারে।
বসুন্ধরা শপিং মলের ইনফিনিটির বিক্রেতা আলী মাহবুব বলেন, ‘মেয়ে শিশুদের শীতের পোশাকে রয়েছে ফুল, লতাপাতা, ডিজনি প্রিন্সেস, অ্যানিমেশনের বিভিন্ন চরিত্র। জ্যাকেট কিংবা সোয়েটারে যোগ করা হয়েছে প্রজাপতি এবং তারার মোটিফ। কোনোটায় আছে ছোট পুতুল’। ছেলে শিশুদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন কার্টুন চরিত্র, সুপারহিরো, স্ট্রাইপ দেওয়া হুডি, জ্যাকেট, ওভারকোট, পুল-ওভার, ফুলহাতা শার্ট। হুডির জনপ্রিয়তা এখন বেশি। সেই সঙ্গে রেক্সিন, জিনস ও চামড়ার লম্বা জ্যাকেটের চাহিদাও রয়েছে বেশ।

এ ছাড়া হালকা শীতে পরার জন্য রয়েছে জিনসের ফ্রক, ভারী স্কার্ট, উলের স্লিপিং সেট, কটি, ক্যাজুয়াল ব্লেজার ও শ্রাগ।নানা কাটছাঁট
এসব শীতপোশাকের মধ্যেও যোগ হয়েছে বাড়তি মাত্রা। পিছে হয়তো একটু ঝুল বেশি, কিংবা সামনে-পেছনে বেল্টযুক্ত, আবার গলার কাছে রঙিন ফিতা—এসবই পছন্দ করছে শিশুরা। নতুন ধারার যেই শীতপোশাকটি শিশুদের বেশি পছন্দের তা হলো শ্রাগ এবং কেপ—এই দুটোর মিশ্রণে বানানো সোয়েটার। সামনে বুক কাটা কিংবা বড় বোতামযুক্ত এই পোশাকের নকশাটাই ভিন্ন। একই সঙ্গে অনেকগুলো রঙের মিশ্রণ থাকায় এটি বেশ ফ্যাশনেবলও বটে। জিগজ্যাগ নকশাটাও ফুটিয়ে তোলা হয় ভিন্ন রং দিয়ে। কোনোটায় হয়তো সাদার সঙ্গে লাল, কালো উলের কাজ করা কিংবা কোনোটায় ম্যাজেন্টার সঙ্গে সাদা জিগজ্যাগ কাজ। কোনোটায় আবার ফুটিয়ে তোলা হয়েছে লেস, পুঁতির কাজ।
এ ছাড়া রয়েছে শিশুদের মাফলার, কানটুপি, পায়জামা, হাতমোজা, টাইট, টুপি, বেবিকিপার। এদিকে শিশুর টুপি, মোজায় রয়েছে মাল্টিকালারের নকশা।
শিশুর জন্য যেমন
বারডেমের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসা কর্মকর্তা ফাহমিদা রহমান বলেন, ‘স্টাইল তো রয়েছেই, কিন্তু সবার আগে প্রয়োজন এমন কাপড়ের শীতপোশাক, যা শিশুর জন্য আরামদায়ক হবে। শিশুর ত্বক এমনিতেই আমাদের চেয়ে ৬ থেকে ৯ শতাংশ নাজুক থাকে। তাই সেভাবেই কাপড় ও পোশাক বাছাই করতে হবে।’ তিনি আরও মনে করেন—

* ফ্ল্যানেল, সুতি এবং উলের তৈরি শীতপোশাক শিশুদের জন্য সবচেয়ে ভালো। অনেক সময় রেক্সিন কিংবা যেকোনো কৃত্রিম তন্তুর কাপড়ে শিশুর চর্মরোগ দেখা দেয়। সিল্কের কাপড় তো শিশুদের জন্য একদমই নয়।

* ভারী পোশাক পরালে খেয়াল রাখবেন শিশু যেন ঘেমে না যায়। কেননা ঘাম জমে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে। তাই গলার কাছে বাতাস চলাচল করতে পারে এমন শীতপোশাকই ঘরে পরানো উচিত। এ জন্য নির্দিষ্ট সময় পর শিশু ঘেমে গেছে কি না খেয়াল করুন।

* বাইরে যাওয়ার আগে হাতমোজা, কানটুপি পরিয়ে দিন। বাসায় ফিরে অবশ্যই এসব কাপড় বদলে দিন।

* ঘুমের সময় যেহেতু গায়ে লেপ বা কম্বল থাকে, তাই অতিরিক্ত গরম কাপড় না পরানোই ভালো। চাইলে শিশুদের মাপ অনুযায়ী কম্বল বা সুতির কুইল্ট কিনতে পারেন।

পোশাকের চাই যত্নআত্তি

* খুব বেশি ডিটারজেন্ট ব্যবহার না করাই ভালো। সাধারণত কাপড়ের গায়ে লেখা থাকে, সেই অনুযায়ী পরিষ্কার করা উচিত।

* দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর সামান্য গরম পানি দিয়েও ধুয়ে নেওয়া যায়। তবে অবশ্যই কাপড়ের ধরন বুঝে।

* প্রয়োজনে কম ক্ষারযুক্ত শ্যাম্পু দিয়েও কাপড় পরিষ্কার করতে পারেন।

* শীতপোশাক রোদে শুকানোই ভালো। একে তো বাতাসে ভেজা ভাব থাকে, তার ওপর আবার পোশাকটাও হয় ভারী। তাই কাপড় ঠিকমতো না শুকালে শিশুর ঠান্ডা লাগতে পারে।

* যেহেতু দীর্ঘ এক থেকে দুই মাসের জন্য কম্বল, লেপ বা সুতির কুইল্ট ব্যবহার করা হয়, তাই এর কাভার পাল্টানো উচিত। নতুবা ধুয়েও দিতে পারেন।

* আলমারিতে রাখা হলেও একটা স্যাঁতসেঁতে ভাব জমে যায় কাপড়ের ভাঁজে। তাই পরার আগে কিছুক্ষণ ফ্যানের নিচে বা রোদে রাখতে পারেন।

* শীতের বিদায়ক্ষণে কাপড়গুলো প্যাকেট করে তুলে রাখুন।

যেখানে যেমন

শিশুর শীতপোশাক পাবেন যেকোনো শপিং মল কিংবা ফ্যাশন হাউসেই। ইনফিনিটি, আড়ং, নিপুণ, মম অ্যান্ড মি, স্মার্টেক্স, কিডস ক্লাব, খাজানাতে পেয়ে যাবেন নানা ধরনের গরম কাপড়। বসুন্ধরা সিটি, সীমান্ত স্কয়ার, টোকিও স্কয়ারসহ নিউমার্কেট, নুরজাহান মার্কেটে পেয়ে যাবেন সাধ্যের মধ্যেই।

শিশুদের এই শীতপোশাকের দাম নির্ভর করবে কাপড় ও নকশার ওপর। মোট কথা, ৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাবে শিশুর আরামদায়ক বর্ণিল শীতপোশাক।

Check Also

গামছায় ফ্যাশন

আমাদের দেশীয় বস্ত্রশিল্পের একটি উল্লেখযোগ্য অনুষঙ্গ গামছা। স্বকীয় বুননশৈলী, নকশা ও রঙের ব্যবহারে গামছার রয়েছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.