Thursday , June 29 2017
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
Home / স্বাস্থ্য সেবা / স্থূলতা প্রতিরোধে করণীয়

স্থূলতা প্রতিরোধে করণীয়

সিএনএনের এক জরিপে বলা হইয়াছে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ তথা প্রায় দুইশত কোটি মানুষ শারীরিক স্থূলতার সমস্যায় আক্রান্ত। তাহাদের মধ্যে শতকরা পাঁচ ভাগ শিশু ও ১২ ভাগ পূর্ণ বয়স্ক মানুষ। ক্রমবর্ধমান নগরায়নের ফলে নগর জীবনে অভ্যস্ত হইবার বাস্তবতা, অপিরিমিত ও অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাবই মূলত স্থূলতা সমস্যার অন্যতম বড় কারণ। তবে এই সমস্যাটি নির্দিষ্ট কোনো দেশের নহে, বরং ইহা একটি বৈশ্বিক সমস্যা। ১৯৮০ হইতে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিগত ৩৫ বত্সরে বিশ্বে এই স্থূলতার সংখ্যা দ্বিগুণ হারে বাড়িয়াছে। তবে এই ধরনের সমস্যা উন্নত বিশ্বেই প্রকট আকার ধারণ করিয়াছে। জরিপে বলা হয়, শিশু ও তরুণদের মধ্যে স্থূলতার সমস্যা সবচাইতে অধিক যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে স্থূল শিশু ও তরুণের হার প্রায় ১৩ শতাংশের মতো। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামে স্থূলতা বৃদ্ধির হার এইসব দেশের তুলনায় যত্সামান্যই বলা চলে। অর্থাত্ মোট জনসংখ্যার মাত্র এক শতাংশ। তথাপি সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে এই পরিস্থিতিরও উন্নতি আবশ্যক।

স্থূলতা হইল শরীরে অতিরিক্ত স্নেহ বা চর্বি জাতীয় পদার্থ জমা হইবার অবস্থা, যাহা বৃদ্ধি পাইলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে বিভিন্ন রোগ বাসা বাঁধে। বিশেষ করিয়া হূদরোগ, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার ও অস্টিওআর্থারাইটিসের মতো রোগের বিস্তার ঘটে অধিকহারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন হইতে জানা যায়, স্থূলতা কমপুষ্টি ও সংক্রামক ব্যাধির মতো প্রথাগত কিছু স্বাস্থ্য সমস্যারও জন্ম দেয়। বংশ পরম্পরায় জিনগত বৈশিষ্ট্য হইতে প্রাপ্ত গুণাবলি, কিছু কিছু ক্ষেত্রে জিনের চরিত্রের পরিবর্তন, হরমোন গ্রন্থির গণ্ডগোল, ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ও মানসিক অসুস্থতাও স্থূল বা মোটা হইবার অন্যতম কারণ। তবে সবকিছুকে ছাপাইয়া অতিভোজন ও প্রচুর ক্যালরিযুক্ত ফাস্টফুড গ্রহণের বাস্তবতাকেই স্থূলতার প্রধান প্রভাবক হিসাবে বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন। অথচ সমকালীন বিশ্বে অনাহারে—অর্ধাহারে দিনাতিপাত করা মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০ কোটির মতো। শুধু ইয়েমেন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান ও নাইজেরিয়ার মতো চারটি দেশেই এই ধরনের অন্তত দুই কোটি মানুষ আছে।

বর্তমান বিশ্বে স্বাস্থ্য সমস্যার অন্যতম মাথাব্যথার কারণ হইল এই শারীরিক স্থূলতা। এই কারণে বিশ্বে প্রতি বত্সর মৃত্যুবরণও করিতেছে লক্ষ-লক্ষ মানুষ। স্বাস্থ্যগত বিরূপ প্রভাবের পাশাপাশি স্থূলতা অর্থনৈতিকভাবেও মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই ক্ষেত্রে খাবারের ব্যয় বৃদ্ধি, উত্পাদন হ্রাস ও কর্মক্ষেত্রে অসুবিধা তৈরি হইবার মতো বিষয়সমূহ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আমরা জানি, স্বাভাবিক ওজনের সহকর্মীদের তুলনায় মোটা কর্মীদের মধ্যে অনুপস্থিতির হার অধিক হয়, অসুস্থতার জন্য তারা প্রায়শই ছুটি নেয়। ফলে নিয়োগকর্তার খরচ বাড়িয়া যায় এবং উত্পাদনশীলতা কমিয়া যায়। উপরন্তু সামাজিকভাবেও হেয় প্রতিপন্ন হইবার আশঙ্কা থাকে। তাই স্থূলতা প্রতিরোধ অত্যন্ত জরুরি। এইজন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন শারীরিক পরিশ্রমের পরিমাণ বৃদ্ধি করা। একইসঙ্গে পরিমিত স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণের অভ্যাস গড়িয়া তোলাও আবশ্যক।

Check Also

চিকুনগুনিয়া সেরেছে ব্যথা সারেনি

গ্রীষ্মের শুরু থেকেই ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে দেখা দিয়েছে চিকুনগুনিয়া। অতি অল্প সময়ে অধিকসংখ্যক মানুষকে একই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *