Wednesday , October 18 2017
Breaking News
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
Home / স্বাস্থ্য সেবা / শ্বাসনালীতে ইনফেকশন

শ্বাসনালীতে ইনফেকশন

আমাদের শ্বাসযন্ত্রের উপরি অংশ তথা নাক থেকে শুরু করে ব্রঙ্কাস পর্যন্ত অংশের স্বল্পমেয়াদি সংক্রমণকে স্বল্পমেয়াদি শ্বাসনালীর সংক্রমণ বা শ্বাসনালীর ইনফেকশন বলা হয়ে থাকে।
স্বল্পমেয়াদি বলতে কত দিন বোঝায়
সাধারণত এ জাতীয় সংক্রমণ ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে। স্থায়ীত্বের এ স্বল্পকালীন সময়ের জন্যই এদের স্বল্পমেয়াদি সংক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।
কী কী রোগ এ স্বল্পমেয়াদি শ্বাসনালীর সংক্রমণের আওতায় পড়ে
শ্বাসনালী অনেকগুলো অংশের সমন্বয়ে গঠিত। এ অংশগুলো যেমন : নাক, ফ্যারিংস, ল্যরিংস, ট্রাকিয়া, ব্রঙ্কাস এগুলো স্বল্পমেয়াদি সংক্রমণের আওতায় পড়ে থাকে। সংক্রমণজনিত রোগগুলো যেমন
১. কমন কোল্ড বা সাধারণ সর্দি, কাশি
২. স্বল্পমেয়াদি ফ্যারিনজাইটিস ও টানসিলাইটিস
৩. স্বল্পমেয়াদি ল্যারিনজাইটিস
৪. স্বল্পমেয়াদি সাইনোসাইটিস
৫. স্বল্পমেয়াদি ব্রঙ্কাইটিস-এ রোগগুলো অন্যতম। গঠনগত দিক থেকে এ অংশগুলো প্রায় মিল থাকায় সংক্রমণজনিত উপসর্গগুলোর মধ্যে অনেকটাই মিল দেখা যায়।
স্বল্পমেয়াদি ব্রঙ্কাইটিস রোগটি কী
এটাও শ্বাসনালীর স্বল্পমেয়াদি সংক্রমণজনিত একটি রোগ, যেখানে ট্রাকিয়া ও ব্রঙ্কাসের পুরো অংশ বা অংশবিশেষ আক্রান্ত হয়। সাধারণত শীতকালে যখন আমাদের আবহাওয়ায় তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে তখন এ জাতীয় সংক্রমণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যদিও বছরের যে কোন সময়ে সীমিতভাবে হলেও এ জাতীয় সংক্রমণের প্রকোপ দেখা যায়।
কারা এ স্বল্পমেয়াদি ব্রঙ্কাইটিসে বেশি আক্রান্ত হয়
যেকোন বয়সের নারী বা পুরুষ এ সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে, তবে শিশু ও বৃদ্ধ/বৃদ্ধাদের মাঝে এ জাতীয় সংক্রমণের প্রকোপ সর্বাপেক্ষা বেশি। এছাড়াও অন্য কোন রোগে মারাত্মকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিও সহজেই এ জাতীয় সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে।
সংক্রমণের সঙ্গে ধূমপানের কি কোন সম্পর্ক রয়েছে?
অবশ্যই রয়েছে। যারা দীর্ঘমেয়াদে ধূমপায়ী বা অধিক হারে ধূমপায়ী তাদের মধ্যে এ জাতীয় সংক্রমণের হার অধূমপায়ীদের চেয়ে বেশি। ধূমপায়ীদের এ সংক্রমণের চিকিৎসার একটি অন্যতম অংশ হল বদ অভ্যাসটি ছেড়ে দেয়া কিংবা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়া অবধি ধূমপান থেকে বিরত থাকা। এ ছাড়া নগরায়নের ফলে সৃষ্ট কিছু সমস্যা যেমন : গাড়ির কালো ধোঁয়া, কল-কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া, বাতাসে ধূলিকণার আধিক্য ইত্যাদিও নগর জীবনে এ জাতীয় সংক্রমণের সহায়তা করে। যে কারণে গ্রামের চেয়ে নগর জীবনে এ জাতীয় সংক্রমণে মাত্রা বেশি।
স্বল্পমেয়াদি ব্রঙ্কাইটিসে রোগী কী কী উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারে
রোগী সাধারণত হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে থাকা, দুর্বলতা বোধ করা, জ্বর জ্বর ভাব বা মাংসপেশীর ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারে। পরে রোগীর কাশি শুরু হয়। কাশি সাধারণত শুষ্ক বা অল্প কফ বের হতে পারে। অনেক সময় কফের সঙ্গে সামান্য রক্ত মিশ্রিত অবস্থায় আসতে পারে যা রোগীকে অনেক সময় আতংকিত করে তোলে। তবে এ রোগে সাধারণত শ্বাসকষ্ট হয় না। যে কারণে বুক পরীক্ষা করলে তেমন সুনির্দিষ্ট কোন সমস্যা পাওয়া যায় না। রোগের মাত্রা বেশি হলে অল্প কিছু ক্ষেত্রে লম্বা শ্বাস পাওয়া যেতে পারে।
কীভাবে এ রোগ নির্ণয় করা যেতে পারে
সাধারণত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগের লক্ষণগুলো বিচার করে স্বল্পমেয়াদি ব্রঙ্কাইটিস রোগ নির্ণয় করা যায়। অধিকাংশ সময়েই কোন পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। তবে কফের সঙ্গে রক্ত গেলে বুকের বা ব্রঙ্কোসকপির সাহায্যে রক্ত যাওয়ার কারণে নির্ণয়ের চেষ্টা করা উচিত।
স্বল্পমেয়াদি ব্রঙ্কাইটিস কি টিবি বা যক্ষ্মা রোগের জন্য হতে পারে
সাধারণত না। তবে অনেক সময় কফের সঙ্গে রক্ত যাওয়াকে অনেকেই যক্ষ্মা হিসেবে ধারণা করতে পারে। এক্ষেত্রে কফে যক্ষ্মার জীবাণু পরীক্ষা করে এবং বুকের সাহায্যে নিশ্চিত হওয়া যায়।
কীভাবে চিকিৎসা করা যায়
সাধারণত উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসাই এ রোগের জন্য যথেষ্ট। যেমন, নাক দিয়ে পনি পড়া, শুষ্ক কাশি, হাঁচি ইত্যাদি উপসর্গের জন্য কোডিন জাতীয় ওষুধ ভালো নিরাময় করে। বাজারে কফ প্রদায়ী যেসব সিরাপ আছে সেগুলো এ রোগের চিকিৎসায় তেমন কোন কাজে আসে না। তবে কাশির সঙ্গে হলুদ ও হলদেটে কফ গেলে এন্টিবায়োটিকের সাহায্য নেয়া ভালো।
চিকিৎসা না করলে কী কী অসুবিধা হতে পারে
অনেক ক্ষেত্রেই ভাইরাসজনিত বলে চিকিৎসা না করলেও তা ভালো হয়ে যেতে পারে। তবে যদি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণজনিত হয় তাহলে চিকিৎসা না করলে এ রোগ ফুসফুসের অন্য অংশে ছড়াতে পারে, এমনকি সারা শরীরেও এ রোগ ছড়াতে পারে যা মারাত্মক অসুস্থতার জন্মে দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা না করলে এ রোগ ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

Check Also

মুখের ক্যানসার

নারী-পুরুষ উভয়ই মুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারেন। সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তিরা (৫০ বছর এবং পঞ্চাশোর্ধ্ব) এ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.