Thursday , June 29 2017
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
Home / লাইফস্টাইল / নতুন বছরে ওজন কমাবই কমাব

নতুন বছরে ওজন কমাবই কমাব

দুই বছর আগের বিয়ের ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন তানজিনা। সে সময় কী সুন্দর গড়ন ছিল তাঁর। দুই বছরেই ওজন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের সেই পছন্দের পোশাকগুলো আর পরতে পারেন না। আয়নার সামনে দাঁড়াতে অসহ্য লাগে। বেশ কয়েকবার অনেক আগ্রহের সঙ্গে ডায়েট করা শুরু করেছিলেন, কিন্তু কেন যেন নিয়মিতভাবে চলতে পারেননি তিনি। ধীরে ধীরে অনুপ্রেরণাকে সরিয়ে দিয়ে সেখানে স্থান নিয়েছে ওজন বৃদ্ধির হতাশা।

তানজিনার মতো এ সমস্যায় ভোগেন অনেকে। হতাশা ঝেড়ে ফেলে নতুন বছরে আপনার লক্ষ্য নিজেকে নতুনভাবে ফিরে পাওয়া।

আগ্রহ হারানোর কারণ কী?

আগ্রহ হারানোর কারণ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদের কাছে। তিনি মনে করেন, আগ্রহ হারানোর প্রধান কারণ অনিয়ম। প্রত্যেক মানুষকেই খাবার একধরনের ‘মানসিক আনন্দ’ দেয়। তাই মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পড়ে অনিয়ম হয়ে যেতেই পারে। অনিয়মটা যদি চলতেই থাকে, তাহলেই ধীরে ধীরে আবার আগের ওজন ফেরত আসে।

আর এ অনিয়ম দুটি কারণে হয়। প্রথমত, আশপাশের মানুষের অসহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা প্রদানের অভাব। যেমন কোনো অনুষ্ঠান বা বিয়েবাড়িতে গিয়ে পরিমাণমতো খেলে অনেকে বিদ্রূপের ছলে বলে ওঠেন, ‘ও, ডায়েট করছ নাকি!’ কিংবা ‘একদিন একটু খেলে মোটা হয়ে যাবে না।’ তাঁদের মন রক্ষার্থে অনিয়ম শুরু আর এভাবে অনিয়ম চলতেই থাকে।

দ্বিতীয়ত, নিজের ইচ্ছাশক্তির অভাব। ইচ্ছাশক্তির অভাবের কারণে অনেকেই খাবারের লোভ সামলাতে পারেন না। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন খাবারের ছবি দেখে খাওয়ার ইচ্ছা, নতুন নতুন জায়গার খাবার খেয়ে চেক–ইন দেওয়া, এভাবে খাবারের লোভ অনেকেই সামলাতে পারেন না আর অনিয়ম করে ফেলেন।

অনুপ্রেরণাধরে রাখতে করণীয়

* ছোট ছোট কিছু পদক্ষেপই আপনার অনুপ্রেরণা প্রেরণ।

* নিজের সব থেকে সুন্দর ছবিটা সামনে রাখুন। যেন সেটি দেখে নিজের ইচ্ছাশক্তি বাড়াতে পারেন।

* পরিবারের সহযোগিতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিছুটা ওজন কমলে স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যরা যদি কোনো উপহার দেন কিংবা কোথাও বেড়াতে নিয়ে যান, তবে মানসিক বল বৃদ্ধি পায়।

* বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলতেই পারেন, কিন্তু সেটিকে পূরণ করার দায়িত্বটাও আপনার। অতিরিক্ত খাবার খাওয়ায় অপরাধবোধে না ভুগে প্রতিদিনের ব্যায়ামের সঙ্গে একটু বেশি ব্যায়াম করে ক্যালরি খরচ করে ফেলুন। প্রতি ১০০ ক্যালরির জন্য অতিরিক্ত ২০ মিনিট ‘ব্রিদ ওয়াক’ বা ‘দ্রুত হাঁটা’র অভ্যাস করুন।

* অনেক সময় রাতের দাওয়াতে অতিরিক্ত খাওয়ার কথা ভেবে দুপুরে না খেয়ে থাকেন অনেকেই। কিন্তু রাতে ক্ষুধা থাকার কারণে প্রয়োজনের তুলনায় বেশিই খেয়ে ফেলেন। ফলে ক্ষতি কমাতে গিয়ে আরও বেশি হয়। রাতে দাওয়াত থাকলে দুপুরে, বিকেলে নিয়মমতো খাবেন এবং রাতে দাওয়াতে যাওয়ার আগে কিছু খাবার খেয়ে যাবেন, এতে আপনি সহজেই উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার এড়িয়ে যেতে পারবেন।

* পুষ্টিবিদেরা ছোট ছোট কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে আপনার আগ্রহটাকে ধরে রাখতে সাহায্য করে থাকেন। কিন্তু তাঁদের কাছে নিয়মিত না গেলে অনেক সময়ই আগ্রহে ভাটা পড়ে। ফলে পুনরায় ওজন বেড়ে যায়।

* ·অনেকেই ওজন কমানোর জন্য নিজের মতো করে খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দেন। এর ফলে শরীরের ওজন হয়তো খানিকটা কমে কিন্তু অন্যান্য অঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির ছাপ পড়ে যায়। ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ ও লাবণ্যহীন হয়ে যায়, চোখের নিচে কালি পড়ে এবং ত্বকে বলিরেখা পড়তে শুরু করে। এমন ‘ক্রাশ ডায়েট’ করলে ওজন কমানোর আগ্রহটা একসময় একেবারেই থাকে না। এ জন্য প্রয়োজন একজন পুষ্টি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে একটি সঠিক ডায়েট চার্ট।

* ধৈর্য ধরে নিয়ম মেনে চলুন। ভালো কোনো কিছুই হঠাৎ করে পাওয়া যায় না।

Check Also

আপনি কী বারবার ভুলে যান? তাহলে বিপদ

ছোটখাটো সব জিনিস ভুলে যাচ্ছেন? ভুলেও হেলাফেলা করবেন না। কারণ অল্পস্বল্প ভুলে যাওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *