Sunday , July 23 2017
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
Home / ভ্রমণ / লিচুর এক দেশ আছে না…

লিচুর এক দেশ আছে না…

খুবই ব্যস্ত ছিলাম। এমন সময় মুঠোফোন বেজে উঠল। কপালে দুটো রেখা টেনে তাকালাম ফোনটির দিকে। দেখি, বড় ভাই ফোন দিয়েছেন। ‘হ্যালো বাবু ভাইয়া বলো।’ অপর প্রান্ত থেকে ভাই বললেন, ‘বৃহস্পতিবার দিনাজপুর যাচ্ছি, তুই যাবি আমার সঙ্গে?’
আমি ক্ষীণ গলায় বললাম, ‘আমার একটু কাজ ছিল যে।’
আমার গলা যতটা ক্ষীণ, ওদিকে ভাইয়ের গলা ততটাই ভারী, ‘কাজ পিছায় দে।’ আমার পক্ষে আর না বলা সম্ভব হলো না। গত বৃহস্পতিবার সময়মতো হাজির হলাম বাসস্টেশনে। বড় ভাই, তাঁর দুই সহকর্মী আশিষ সেন ও মো. আমিন আর আমি দিনাজপুর ভ্রমণে চললাম।
দিনাজপুরে গিয়ে দেখা হলো রামসাগর। বিশাল এক দিঘি। দিনাজপুর শহর থেকে ২১ কিলোমিটার দুরে টেরাকোটার কাজ করা কান্তজীর মন্দিরও দেখলাম। কিন্তু এবারের দিনাজপুর যাওয়ার মূল উদ্দেশ্য লিচু খাওয়া ও কেনা। বাজার থেকে কিনে লিচু খাওয়া আর বাগানের গাছ থেকে নিজ হাতে পেড়ে লিচু খাওয়ার মধ্যে বিস্তর ফারাক। কাজী নজরুল ইসলামের ‘লিচু চোর’ কবিতাটা মনে পড়ল। ‘লিচুর এক গাছ আছে না!’ দিনাজপুর অঞ্চল তো লিচুর এক দেশই বটে। এখানে এসে লিচু খাওয়ার মজাই আলাদা।

e1c1caeb400e9568c350b724b9e9eab4-untitled-13

দুপুরের খাবার খেয়ে সবাই বেরিয়ে পড়লাম লিচুবাগানের পথে। আমিন ভাই তাঁর পরিচিত লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে আগে থেকেই বাগান বেড়ানোর ব্যবস্থা করে রেখেছেন। আমরা রওনা দিলাম লিচুর রাজ্য দিনাজপুরের মাশিমপুরের লিচুবাগানে। দিনাজপুর জেলার সবখানেই কম-বেশি লিচুর চাষ হয়। তবে মাশিমপুর লিচুর জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত। এখানকার বাড়িতে বাড়িতে দেখা গেল সবাই লিচু নিয়ে ব্যস্ত। সড়কের দুপাশে শুধুই লিচুগাছ। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ডাল ভারী হয়ে ঝুলছে লাল লাল লিচু।
ছবি: লেখকপ্রধান সড়ক ছেড়ে আমরা ঢুকে পড়লাম ছোট একটি রাস্তায়। ঢুকতেই পাওয়া গেল আরও অনেক লিচুবাগান। বাগানগুলোর গাছগুলো নুয়ে পড়েছে বেদানা, বোম্বাই, মাদ্রাজি, চায়না-থ্রি আর দেশি লিচুর ভারে। একটি বাগানের গাছ থেকে লিচু পেড়ে খাওয়ার সৌভাগ্য হলো। বাগানের মালিক পরিচিত বলেই এটা সম্ভব হলো। বাগান পরিচর্যাকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানলাম, টানা বৃষ্টি হলে লিচু নষ্ট হয়ে যায়। বৃষ্টির পরপরই কীটনাশক দিতে হয়, নয়তো পোকার আক্রমণ হয়। তবে এঁরা ফরমালিন জাতীয় রাসায়নিক ব্যবহার করেন না। আমরা এ-বাগান সে-বাগান ঘুরতে লাগলাম আর লিচুর দরদামের সঙ্গে চলতে থাকল লিচু খাওয়া। বোম্বাই আর মাদ্রাজি লিচুর দাম কিছুটা কম, প্রতি ১০০ লিচু ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। বেদানা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আর চায়না-থ্রি জাতের লিচু ৮০০ টাকা থেকে শুরু। এর মানে একটা লিচুর দাম আট টাকা! এত দামি লিচু আগে চেখে দেখিনি, টপ করে একটা মুখে পুরে দিলাম। মুখে দিতেই মুখটা মিষ্টি রসে ভরে গেল।

54a107f0826567ee15fcb3067545df91-untitled-14

দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরতে ঘুরতে প্রায় শ খানেক লিচু খেয়ে ফেললাম আর হাজার দুয়েক বিভিন্ন জাতের লিচুর অর্ডার দিলাম। প্রধান সড়কে এসে দেখি সড়কের দুপাশে ছেলেমেয়েরা সদ্য পেড়ে আনা লিচু নিয়ে বসেছে বিক্রির আশায়। এরপর গেলাম কালিতলা নিউমার্কেটে, যেখানে লিচুর হাট বসে। যদিও এখন শেষ বেলা, সবাই তাদের সারা দিনের হিসাব-নিকাশের জের টানতে ব্যস্ত। বাজারের সঙ্গে কুরিয়ার সার্ভিস, লিচুর পার্সেল পাঠাতে। আমরা আমাদের কেনা লিচুগুলো পার্সেল করে দিলাম। দিনাজপুর থেকে লিচু আনার এটাই সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি, তবে পরিমাণে অল্প হলে হাতে করেই নিয়ে আসা যায়।
লিচুর রাজ্যে হানা দেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়। তাই এখনই বেড়ানোর পরিকল্পনা করে ফেলতে পারেন যে কেউ। দিনাজপুর যেতে পারেন বাস অথবা ট্রেনে আর থাকার জন্য শহরে হোটেল আছে, যদিও লিচুর মৌসুমে রুম পাওয়া একটু কঠিন।

Check Also

খইয়াছড়ার ঝরনায়

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের খইয়াছড়া ঝরনার খবর পৌঁছে গেছে প্রকৃতিপ্রেমিকদের কাছে। শহর থেকে ঘণ্টা খানেকের দূরত্বে মিরসরাই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *