Friday , September 22 2017
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
Home / লাইফস্টাইল / নিমিষেই ঘুম দিন!

নিমিষেই ঘুম দিন!

আজ ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হার্ট দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘হৃদরোগের ঝুঁকিসমূহ জানুন, জীবনে গতি আনুন’। সবাই হৃদরোগের ঝুঁকিসমূহ জানুন, হার্টকে ভালোবাসুন এবং আপনার স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হোন।
বিজ্ঞানের অবিস্মরণীয় উন্নতির ফলে চিকিত্সা বিজ্ঞানেরও অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। কলেরা, ডায়রিয়া, বসন্ত, যক্ষ্মা, হাম এবং বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি সহজেই চিকিত্সায় নিরাময় এবং প্রতিরোধ যোগ্য। চিকিত্সা বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে নিরাপদ পানি, খাদ্য সরবরাহ, চিকিত্সা পদ্ধতি, কার্যকরি টিকা কর্মসূচি, সর্বোপরি মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে সংক্রামক ব্যাধি কমে যাচ্ছে, মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। ফলে বার্ধক্যজনিত রোগ যেমন অস্টিওপরোসিস, অস্টিওআর্থ্রোসিস, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার ইত্যাদি বাড়ছে এবং হয়ে উঠছে বড় ঘাতক। বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে হৃদরোগ এবং স্ট্রোক সবচেয়ে বড় ঘাতক ব্যাধি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অসংক্রামক রোগের ১২.৫ ভাগ মৃত্যু হয় হৃদরোগে, যার মধ্যে শতকরা ৮২ ভাগ মৃত্যু হয় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের। কারণ এর চিকিত্সা দীর্ঘমেয়াদি এবং অনেক ব্যয়বহুল। সাধারণ কিংবা মধ্যবিত্ত রোগীর পক্ষে এই ব্যয় বহন করা অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না।
হৃদপিণ্ড এবং রক্তনালীর রোগসমূহ: মানব দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হার্ট বা হৃদপিণ্ড। হৃদরোগের ঝুঁকির ব্যাপারটি নির্ভর করে আপনি কীভাবে জীবন-যাপন করছেন তার ওপর। অতিরিক্ত ধূমপান, শুয়ে বসে সময় কাটানো, শরীর চর্চাহীন জীবন এবং চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণের কারণে চর্বি জমা হয়ে ধমনিগুলো সরু হতে থাকে। হৃদপিণ্ড রক্তনালীতে রক্ত চলাচলের পথ বা ধমনির ভেতর রক্ত প্রবেশের পথ আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে হৃদপিণ্ডকে অক্সিজেন দিতে ব্যর্থ হলেই ঘটতে পারে হার্ট অ্যাটাকের মতো জটিল রোগ।
হৃদপিণ্ড এবং রক্তনালীর রোগসমূহের মধ্যে এনজাইনা পেকটোরিস, অ্যাকিউট করোনারি সিন্ড্রোম, মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন, পেরিকারডাইটিস বা হৃদপিণ্ডের আবরণে প্রদাহ, এওরটিক ডিসেক্শন বা ছিড়ে যাওয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
হৃদরোগের রিস্ক ফ্যাক্টর বা ঝুঁকিসমূহঃ বিভিন্ন কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে, যাকে বলা হয় রিস্ক ফ্যাক্টর বা ঝুঁকিসমূহ। কিছু কিছু সহজেই নিয়ন্ত্রণযোগ্য, আর কিছু অনিয়ন্ত্রণযোগ্য। অনিয়ন্ত্রণযোগ্য রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো হলো বয়স, লিঙ্গ ও বংশগত। নিয়ন্ত্রণযোগ্য রিস্ক ফ্যাক্টরের মধ্যে রয়েছে ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য, ডায়াবেটিস, মুটিয়ে যাওয়া, কায়িক পরিশ্রমের অভাব, চর্বি জাতীয় খাদ্য বেশি এবং আঁশ জাতীয় খাদ্য কম খাওয়া, মানসিক চাপ, মদ্যপান, জন্মনিয়ন্ত্রক পিল খাওয়া ইত্যাদি।
কি করে বুঝবেন হৃদরোগে আক্রান্ত হলো কিনা?
১. মাঝে মাঝে সামান্য বুকে ব্যথা বা চাপ চাপ ভাব অনুভব করেন। বিশেষ করে পরিশ্রম বা হাঁটাচলা, সিঁড়িতে ওঠানামা করলে এমনকি খাওয়ার সময়ও বুকের ব্যথা বা চাপ অনুভূত হয়, আবার বিশ্রাম নিলে কমে যায়।
২. হঠাৎ খুব বেশি বুকের মাঝে ব্যথা অনুভূত হওয়া, যা বাম হাতের দিকে এমনকি গলা বা চোয়ালেও ছড়িয়ে যায়। হঠাৎ কাশি বা তীব্রতর শ্বাসকষ্ট, অস্বস্তিবোধ, দুর্বলতা বা ক্লান্তিবোধ হওয়া।
৩. বুকের ব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব এমনকি বমি হওয়া, শরীরে অতিরিক্ত ঘাম, হঠাৎ মাথা ঘুরানো এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা এবং হৃদক্রিয়ার ছন্দ বেড়ে যাওয়া।
৪. কোনো রকম ব্যথা ছাড়াও হঠাৎ শ্বাসকষ্ট অনুভূত হওয়া এবং বিছানায় চিত হয়ে শুতে গেলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া।
৫. ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত নাও হতে পারে। তবে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে ঘাম ঝরা, মাথা ঘোরা ও ক্ষণিকের জন্য চেতনাহীন হয়ে পড়াটাই এই রোগীদের হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ।
৬. হঠাৎ করে পেটে ব্যথা বা গ্যাস হওয়া, বমি, বদ হজম জাতীয় লক্ষণ হতে পারে, যাকে অনেকেই সাধারণ গ্যাস্ট্রিক মনে করে অবহেলা করেন।
হার্ট অ্যাটাকে করণীয়
১. উপরের যে কোনো লক্ষণ অনুভূত হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত, বিশেষ করে যারা আগে থেকেই কোনো না কোনো হৃদরোগে ভুগছেন। এমনকি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে অতিমাত্রায় কোলেস্টেরল রোগীদের বেলায়ও এসব লক্ষণ অনুভূত হলে অবহেলা করা উচিত নয়।
২. বুকে মারাত্মক ব্যথা হলে যদি কোনো নিকটস্থ হাসপাতাল বা ক্লিনিক থাকে, তবে সেখানে নিয়ে যাবার জন্য অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর অনুরোধ করুন।
৩. আপনি একা থাকলে সাহায্যের জন্য প্রতিবেশীকে ডাকুন এবং পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে নিয়ে যেতে অনুরোধ করুন, নিজে গাড়ি চালিয়ে না যাওয়াই ভালো। তবে নিছক প্রয়োজন হলে শেষ আশ্রয় হিসেবে গাড়ি চালিয়ে চলে যাবেন।
৪. যদি আগেই আপনার হৃদরোগ সম্পর্কে জানা থাকে, তবে বুকে ব্যথা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাইট্রোগ্লিসারিন স্প্রে অথবা ট্যাবলেট জিহ্বার নীচে নিতে পারেন। ৩০০ মি.গ্রা. এর একটি অ্যাসপিরিন বড়ি কিছু খাওয়ার পর খেয়ে নিতে পারেন।
কিভাবে হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব : হৃদরোগের চিকিত্সা প্রায়ই ব্যয়বহুল। একবার আক্রান্ত হলে সারা জীবন এই মারাত্মক ব্যাধি পুষতে হয় এবং অনেক ওষুধপত্র খেতে হয়। তাই এই রোগ প্রতিরোধ করাই উত্তম। নিরাময়যোগ্য রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নিলেই অনেক ক্ষেত্রে হৃদরোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
১. ধূমপানকে না বলুন : ধূমপান অবশ্যই বর্জনীয়। এমনকি ধূমপায়ীর সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকুন। তামাক পাতা, জর্দা, গুল লাগানো ইত্যাদিও পরিহার করতে হবে।
২. ওজন কমাতে হবে : খাওয়া দাওয়া নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। একবার লক্ষ্য অনুযায়ী ওজনে পৌঁছালে সীমিত আহার করা উচিত এবং ব্যায়াম অব্যাহত রাখতে হবে। ওষুধ খেয়ে ওজন কমানো বিপজ্জনক। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওজন কমানোর ওষুধ না খাওয়াই ভালো।
৩. পরিমিত খাদ্য গ্রহণ :  কম চর্বি ও কম কোলেস্টেরল যুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। যেমন খাশি বা গরুর গোস্ত, কলিজা, মগজ, গিলা, গুর্দা, ডিম কম খেতে হবে। কম তেলে রান্না করা খাবার এবং ননী তোলা দুধ, অসম্পৃক্ত চর্বি যেমন সয়াবিন, ক্যানোলা, ভুট্টার তেল অথবা সুর্য্যমুখীর তেল খাওয়া যাবে। বেশি আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা ভালো। আটার রুটি এবং সুজি জাতীয় খাবার পরিমাণ মত খাওয়া ভালো।
৪. লবণ কম খাবেন : তরকারিতে প্রয়োজনীয় লবণের বাইরে অতিরিক্ত লবণ পরিহার করতে হবে।
৫. মদ্যপান : অতিরিক্ত মদ্যপান পরিহার করতে হবে।
৬. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ : যাদের ডায়াবেটিস আছে, তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
৭. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে : নিয়মিত চিকিত্সকের কাছে গিয়ে রক্তচাপ পরীক্ষা করানো উচিত্। যত আগে উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে, তত আগে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং জটিল রোগ বা প্রতিক্রিয়া হতে রক্ষা পাওয়া যায়।
৮. নিয়মিত ব্যায়াম : সকাল সন্ধ্যা হাঁটাচলা, সম্ভব হলে দৌড়ানো, হালকা ব্যায়াম, লিফটে না চড়ে সিঁড়ি ব্যবহার ইত্যাদি। কায়িক শ্রম ও নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। সম্ভব হলে অল্প দূরত্বে গাড়ি বা রিকশা ব্যবহার না করে হেঁটে গেলে ভাল।
৯. আমাদের সামাজিক জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায়ই চর্বি জাতীয় যেমন পোলাউ, বিরিয়ানি, মিষ্টি ইত্যাদি খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে।
১০. মানসিক ও শারীরিক চাপ পরিহার করতে হবেঃ নিয়মিত বিশ্রাম, সময় মতো ঘুমানো, শরীরকে অতিরিক্ত ক্লান্তি থেকে বিশ্রাম দিতে হবে। নিজের শখের কাজ করা, নিজ ধর্মের চর্চা করা ইত্যাদির মাধ্যমে মানসিক শান্তি পাওয়া যায় এবং মন প্রফুল্ল থাকে।
১১. শিক্ষা ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। এসব রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, সংবাদপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
হৃদরোগের প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের ব্যাপারে বেশি যত্নবান হতে হবে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে। তবে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে যদি হৃদরোগের ঝুঁকিগুলো জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তাহলেই হৃদরোগ এবং এর ঝুঁকিপূর্ণ অকাল মৃত্যু এড়ানো সম্ভব। মনে রাখতে হবে শুধু নিজে নয়, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও এই ব্যপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
লেখক : ডিন, মেডিসিন অনুষদ, অধ্যাপক মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

Check Also

১৫ কোটি টাকার অন্তর্বাস!

বিচিত্র এই দুনিয়ায় আর কী দেখতে ইচ্ছে করে। দিনদিন অবাক করা কাণ্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে মানুষ। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *