Wednesday , October 18 2017
Breaking News
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
Home / ভ্রমণ / রোমাঞ্চকর বিষাদময় পর্যটন কেন্দ্র!

রোমাঞ্চকর বিষাদময় পর্যটন কেন্দ্র!

অনেকেই মনে করেন ভ্রমণ মানেই তো প্রাকৃতিক নৈসর্গের সাক্ষাৎ। পৃথিবীতে এমন কিছু পর্যটন কেন্দ্র আছে যা খুবই রোমাঞ্চকর ও বিষাদময়। মজার কিছু দেখার আশা মেটাতেই ভ্রমণে যায় মানুষ। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। মন খারাপ করার জায়গাও মাঝে মাঝে মানুষকে টানে। আবার কিছু জায়গা আছে যেখানে গেলে শিউরে উঠবে শরীর। এমনই রোমাঞ্চকর কিন্তু বিষাদময় কিছু পর্যটন স্পটের ঠিকানা :

খুলির টাওয়ার

নাম শুনেই ভড়কে গেলেন? দক্ষিণ সার্বিয়ার নিস নামের শহরে মানুষের মাথার খুলি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি টাওয়ার। ১৮০৯ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের ৩৬ হাজার সেনা সার্ব বিদ্রোহীর আক্রমণ করে। কিন্তু আত্মসমর্পণ না করে প্রতিপক্ষের নেতা স্টিভেন সিন্ডেলিক শক্তিশালী আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটান। দুপক্ষেরই বহু সেনা মারা যায়। পরে তুর্কি কমান্ডাররা শহরের প্রবেশমুখে ৯৫২টি খুলি জোগাড় করে ১৫ ফুট উঁচু একটি টাওয়ার তৈরি করে।

টাওয়ারটিতে সবার উপরে স্থান পায় সিন্ডেলিকের খুলি। আর বিজয় নিশান হিসেবে খুলি থেকে মুখের চামড়া বিচ্ছিন্ন করে সেটা পাঠিয়ে দেওয়া হয় রাজধানী ইস্তানবুলে। অবশ্য সময়ের বিবর্তনে অনেকের খুলি নিয়ে গেছেন নিহতের স্বজনরা। এখন টাওয়ারটিতে ৫৮টি খুলি আছে। দেখতে ভয়ানক হলেও টাওয়ারটিকে সংরক্ষণে ১৮৯২ সালে একটি উদ্যোগও নেয়া হয়।

03. Titanic’s Cemeteriesটাইটানিক সমাধি

উদ্বোধনী যাত্রায় সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্কের পথে চতুর্থ দিন ১৪ এপ্রিল ১৯১২ রাত ১১টা ৪০ মিনিটে আইসবার্গের সঙ্গে সংঘর্ষের দুই ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর রাত আড়াইটায় আটলান্টিকে তলিয়ে যায় টাইটানিক। ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বরফশীতল সমুদ্রজলে মারা যায় দেড় হাজার যাত্রী। উদ্ধারকৃত শতাধিক ব্যক্তিকে সমাহিত করা হয় কানাডার বন্দরনগরী হ্যালিফ্যাক্সে। বিষাদময় ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকা এ সমাধি দেখতে এখনও পর্যটকরা হ্যালিফ্যাক্সে ঘুরতে যায়।

04. Nagasaki Museumনাগাসাকি জাদুঘর

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা শহরে পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। তিন দিন পর নাগাসাকি শহরে বিস্ফোরিত হয় আরেকটি বোমা। হিরোশিমায় তাৎক্ষণিকভাবে মারা যায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। নাগাসাকির বিস্ফোরণে নিহত হয় ৭৪ হাজার। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় আরও ২ লাখ ১৪ হাজার মানুষ। নাগাসাকিতে নিহতদের স্মরণে বানানো হয় একটি পরমাণু জাদুঘর। বিস্ফোরণের প্রভাবে কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল তা তুলে ধরা হয়েছে। আহতদের মর্মস্পর্শী ছবি ও বেঁচে যাওয়া অনেকের ভিডিওচিত্র স্থান পেয়েছে এখানে। দুর্বলচিত্তের মানুষদের এখান প্রবেশে নিরুত্সাহিত করা হয়।

05. Ruins of Pompeiiপম্পেইর পথে

৭৯ খ্রিস্টাব্দে ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির ছয় ঘণ্টার অগ্ন্যুত্পাতে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল পম্পেই নগরী। ৬০ ফুট পুরু ছাইয়ের নিচে শহরটি চাপা পড়ে। এই রোমান শহরটির সঙ্গে হারকিউলিনিয়াম শহরটিও অগ্ন্যুত্পাতে ধ্বংস হয়ে যায়। প্রায় দুশ বছর পর আজও বহু পর্যটকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পম্পেইর ধ্বংসাবশেষ। ছাইয়ে ঢেকে যাওয়া পম্পেইর বাসিন্দাদের মমিও দেখা যায় এখানে। এখানে আসলে বিষাদাক্রান্ত হতে যে কেউ।

06. Voodoo Market Togoভুডুর বাজার

টোগোর মতো পশ্চিম আফ্রিকার কয়েকটি দেশে কালো জাদু ভুডুর চর্চা বহু দিন ধরেই চলে আসছে। আর এই ভুডুর জন্য দরকার বিচিত্র সব উপকরণ। আর এগুলোর বিকিকিনির জন্য বিখ্যাত হয়েছে টোগোর আকোদেসোয়া এলাকার বাজার। কুমিরের মাথা থেকে শুরু করে বানরের পা পর্যন্ত প্রাণীদেহের নানা অংশের সন্ধান মেলে এখানে। দুর্বলচিত্তের মানুষ হলে বাজারে খানিকক্ষণ ঘুরলে দেখা যাবে মাথাটাও ঘুরছে। ভয়ঙ্কর আর ধারালো সব অস্ত্রের সন্ধানও মিলবে এখানে।

07.  Body Farm, Tennessee, USAবডি ফার্ম

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব বিভাগের আলাদা একটা সুনাম আছে। এখানকার নৃতাত্ত্বিক গবেষণাগারটিকে বডি ফার্ম নামে ডাকেন অনেকে। অবশ্য যৌক্তিক কারণও আছে। আড়াই একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত গবেষণাগারটির বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে প্রাণহীন মানবদেহ। এর কোনোটি বিশেষ ভঙ্গিতে মাটিতে পড়ে আছে, কোনোটি আবার ডুবে আছে পানির নিচে। আগুনের কাছাকাছিও দেখা যাবে কয়েকটি। আবার পোকামাকড়ের বসতিতেও পড়ে থাকতে দেখা যাবে মরদেহ। প্রকৃতপক্ষে আগুন, পানি বা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মৃতদেহে কী প্রতিক্রিয়া হয় সেটা জানতেই এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়। মজার বিষয় হচ্ছে এখানে বছরে গড়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিজের মরণোত্তর দেহ দানে আবেদন করে।

Check Also

যেখানে নদী, পাহাড় ও ঝরনার বসতি

সূর্যে উঠছে। সূর্যের নরম আলো পাহাড়ের গা বেয়ে নামছে জনবসতির দিকে। নাশতা সেরে চার বন্ধু …

Leave a Reply

Your email address will not be published.