Monday , August 21 2017
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
Home / ফ্যাশন / হালকা শীতে শাল

হালকা শীতে শাল

ফ্যাশনের ট্রেন্ডে সেগুলোতে এসেছে নতুনত্ব। দেশী-বিদেশী সব রকম শালই এখন জনপ্রিয়। শাড়ি, সালোয়ার, কামিজ, জিন্স, ফতুয়া, স্কার্ট সব কিছুর সাথে মানিয়ে যায় শালগুলো। বিভিন্ন রঙ, নকশা, কাটিং, ডিজাইন সব বয়সী নারীদের আকৃষ্ট করে

প্রচণ্ড শীতে চাদর মুড়ি দিয়ে চলাফেরা করায় যে আরাম সেটা আর অন্য শীত পোশাকে কোথায়। তাই তো শীতের দিনে চাদর বা শালের গুরুত্বই আলাদা। শালের প্রচলন আমাদের দেশে অনেক আগে থেকেই ছিল। এখনো এর কদর কমেনি এতটুকু; বরং শীতের ফ্যাশনের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে শালে এসেছে রঙ ও নকশার অসংখ্য বৈচিত্র্য। নারী-পুরুষ উভয়ের ব্যবহারোপযোগী করে তৈরী হচ্ছে শাল। বিদেশী শালও বাজারে রয়েছে প্রচুর। তবে ঢাকা শহরের শীতের সাথে তাল মিলিয়ে গত বছর দুই-তিন ধরে হালকা বা পাতলা শাল ফ্যাশনে জায়গা করে নিয়েছে বেশ ভালোভাবেই। হালকা শীতে এই শালগুলো যেমন আরাম দেয়, তেমনি বহন করতেও সুবিধা। অনেকে দোপাট্টার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছেন নানা রঙ আর ডিজাইনে তৈরী এসব শাল। ফ্যাশন হাউজগুলো পাতলা শালের জনপ্রিয়তার প্রতি লক্ষ রেখে তৈরী করছে শাল। তাতে থাকছে এপল্কি, ব্লক, টাই ডাই, অ্যামব্রয়ডারিসহ জরির কাজ। প্রতিদিনের ব্যবহারে হোক অথবা পার্টিতে, একেবারে মানানসই এই শালের ফ্যাশন এককথায় অনন্য।
উত্তরের জানালাটা খুলতেই যেন এক চিলতে হিমেল হাওয়া দোলা দিয়ে যাচ্ছে ঘরের কোণে। ভোরের কুয়াশার চাদর মোড়া প্রকৃতি, গাছের পাতাঝরা আর মিষ্টি রোদ জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। শীত ঋতুতে আমাদের জীবন ধারায়ও কিছু পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে পোশাক পরিচ্ছদে। শীত নিবারণের জন্য প্রয়োজন হয় শীতের পোশাকের। সোয়েটার, জ্যাকেট, ব্লেজার, শাল শীতবস্ত্র হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। শীত নিবারণের জন্য শালের চল বেশ পুরনো। সোয়েটার বা জ্যাকেট যাই থাকুক না কেন, একটি শাল না হলে ঠিক জমে না। ফ্যাশনের ট্রেন্ডে সেগুলোয় এসেছে নতুনত্ব। দেশী-বিদেশী সব রকম শালই এখন জনপ্রিয়। শাড়ি, সালোয়ার, কামিজ, জিন্স, ফতুয়া, স্কার্ট সব কিছুর সাথে মানিয়ে যায় শালগুলো। বিভিন্ন রঙ, নকশা, কাটিং, ডিজাইন সব বয়সী নারীদের আকৃষ্ট করে। পোশাকের সাথে ম্যাচিং করে নেয়াও যায়। কর্মজীবী নারী, স্কুল-কলেজপড়–য়া কিশোরী-তরুণী এমনকি গৃহিণীরাও হাল ফ্যাশনের এই শালগুলো ব্যবহার করছেন। শালের বাজারও এখন বেশ সরগরম। কয়েক দিন আগেও শাল ছিল দৈর্ঘ্যপ্রস্থে বেশ বড়, যা এখন কমে এসেছে। বেশি শীতে তরুণ-তরুণীরা যেমন মোটা শাল গায়ে জড়াচ্ছে, তেমনি হালকা শীতে বেছে নিচ্ছে পাতলা আর খানিকটা ছোটখাটো আকারের শাল। তবে এক রঙের শালের সাথে উজ্জ্বল রঙের বিভিন্ন ডিজাইন করা শালও চলছে বেশ ভালো, যা সব ধরনের পোশাকের সাথে মানানসই। শীত কম হলে আর শীতের শুরুতেই হালকা পাতলা শালের কদর বেড়ে যায় সবার কাছে।
প্রকৃতির বৈরিতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হলেও থেমে থাকে না কর্মব্যস্ততা। জীবন-জীবিকার জন্য প্রয়োজনে ছুটে চলতে হয় আমাদের। শীতে নিজেকে ঠাণ্ডার হাত থেকে রক্ষার পাশাপাশি ফ্যাশনের ব্যাপারটিও মাথায় রাখতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শাহীন বলেন, ফ্যাশনের ব্যাপারে মানুষ আগের চেয়ে বেশ সচেতন। যেনতেন কিছু একটা পারলেই তো ফ্যাশন হয় না। চাই হাল ফ্যাশনের সাথে তাল মেলাতে। শীত নিবারণ এবং ফ্যাশনের জন্য একই সাথে সবচেয়ে যুগোপযোগী হবে শাল। শীতের শুরুতে সোয়েটার বা ব্লেজার পরার মতো ঠাণ্ডা থাকে না, তাই হালকা শীতে পাতলা শালের বিকল্প নেই। আর শালগুলো বেশ ফ্যাশন্যাবল। হালকা শীতের জন্যই এগুলো বেশ কার্যকর। পাতলা সুতা ও মোটা সুতা ভেদে শালগুলো তৈরী। এক রঙের পাশাপাশি প্রিন্টের পাতলা শাল, নিচে দুই পাশে ঝুল দেয়া, কোনোটায় আবার পমপম দেয়া জুলের বদলে। কিছু আছে একদম ভিন্ন পাতলা ও খানিকটা ছোটখাটো আকারের শাল। শাড়ি, টপস, জিন্স সব পোশাকের সাথেই মানানসই। তবে কয়েকটি আবার কামিজের সাথে নির্দ্বিধায় পরা যাবে। যেমন ওড়না টাইপ কাশ্মিরি শাল দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে ছোট এক রঙা সাথে মোটা নকশাকরা পাড়। হালকা রঙের পাশাপাশি গাঢ় রঙের শালের সমারোহ দেখা গেছে মার্কেটগুলোয়। মেরুন, সিগ্রিন, নীল, লাল, বেগুনি, সাদাকালো এবং বিভিন্ন শেডের শাল। ভারত, চীন, মালয়েশিয়া থেকে আমদানিকৃত এই শালগুলো। মার্কেটের দোকানদাররা জানালেন গ্রাহকদের পছন্দের কথা- এ ধরনের হালকা শালগুলোই বেশি বিক্রি হচ্ছে এখন। কলেজপড়–য়া থেকে সব বয়সী মহিলাই বেশি আকৃষ্ট হচ্ছেন। এসব শাল ফ্যাশন সচেতন তরুণীরা খুব পছন্দ করছেন। তাই এসব শালের চাহিদাই খুব বেশি থাকে ক্রেতাদের কাছে।
আর দেশীয় শালের মধ্যে খাদি পছন্দ করছে অনেকেই। নানা ধরনের কাপড়ে শাল তৈরি হচ্ছে। তবে কুমিল্লা ও টাঙ্গাইলের শালই বাজারে জনপ্রিয়। খাদি কাপড়ের দোকানদার মানিক মিয়া জানান, কুমিল্লার খাদির শাল বাজারে এলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিক্রিও বেড়ে যায়। খাদি ছাড়াও তাঁতের শাল, উলের শাল, পশমি চাদর বা শাল, টাঙ্গাইলের শাল বাজারে বেশ জনপ্রিয়। দাম তুলনামূলকভাবে কম বলে এই শালগুলো সব শ্রেণীর মানুষ কিনতে পারে। দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো নানা রকম শালের কালেকশনে সাজিয়েছে তাদের শীত সমাহার। ফ্যাশন হাউজ চরকার ডিজাইনার জাভেদ কামাল জানান, আমাদের শালের নকশায় উঠে আসছে দেশীয় ঐতিহ্য। কাপড়ের মধ্যে গ্রামীণ খাদিও ব্যবহার হচ্ছে, পছন্দ করছে অনেকেই। এ ছাড়া আছে হালকা সুতা ও মোটা সুতার তৈরী লিলেন কাপড়ের ওপর অ্যাপ্লিক, মেশিন অ্যাম্ব্রয়ডারি, লেসের প্যাচওয়ার্ক, উইভিংয়ের ডিজাইন করা হচ্ছে। শালগুলো সফট ও নষ্ট হয় না সহজে। প্লেন ও গর্জিয়াস দুই ধরনেরই কালেকশন আছে। নানা রকম রঙের ওপর তৈরী এই শালগুলো আমাদের ফ্যাশন্যাবল তরুণীদের আকৃষ্ট করে। তরুণী থেকে সব বয়সী মহিলাই এই শালগুলো পছন্দ করছেন। কম শীতে এই শালগুলোর বেশ কদর। অন্যান্য ফ্যাশন হাউজগুলোও তাদের নিজেদের তৈরী শালগুলোয় সাজিয়েছে তাদের শোরুমগুলো। ডিজাইন ও কাপড়ের ভিন্নতায় দামও আলাদা।
দামটা যেমন
বাজারে নানা ধরনের শালের ছড়াছড়ি। আর তাই দামটাও আছে বিভিন্ন রকম শাল ও মার্কেটের ভিন্নতায়। শীতের শুরুতেই দাম এক রকম আর পরে শীত বাড়ার সাথে সাথে দামও বেড়ে যায়। ভারত, চীন, মালয়েশিয়া থেকে আমদানিকৃত শালগুলোর দাম- চায়না শাল ৪৫০ থেকে ৮০০ টাকা। কাশ্মিরি পাতলা শাল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। উচ্চতায় ও প্রস্থে ছোট কাশ্মিরি শাল ৬০ থেকে ৪০০ টাকা। কুমিল্লার খাদি ও টাঙ্গাইলের শাল ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা। অভিজাত শপিং মলগুলোয় শাল কিনতে পারেন ৫০০ থেকে ৫০০০ টাকার মধ্যে। ফ্যাশন হাউজগুলোয়ও ভিন্ন ভিন্ন দামে শালগুলো পাওয়া যাবে।
যেখানে পাবেন
রাজধানীর প্রায় সব এলাকার মার্কেটগুলোয় শাল পাওয়া যায়। তবে নিউমার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট, বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স, মিরপুর, উত্তরা, গুলশান বা বনানীর বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্সে কিনতে পারেন আপনার পছন্দের শালটি। দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোর শোরুমগুলোয়ও পাওয়া যাবে তাদের শালের কালেকশন।

Check Also

‘শরীর সুন্দর, একে ঢেকে রাখতে হবে কেন?’

‘নগ্নতা আমাদের প্রকৃতিগত, নগ্নতাই মানুষকে মানুষ করে তোলে। আর শরীর সুন্দর, একে ঢেকে রাখতে হবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *