Monday , September 25 2017
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
Home / ফ্যাশন / সম্ভাবনার ফ্যাশন শিল্প

সম্ভাবনার ফ্যাশন শিল্প

ফ্যাশন আধুনিকতার অন্যতম অনুষঙ্গ। আর আধুনিকতাকে ধারণ করে যে শিল্প, সে শিল্পের নাম ফ্যাশন শিল্প। চলমান সময়ে আধুনিকতাকে ধারণ করে আপন গতিতে এগিয়ে চলেছে আমাদের ফ্যাশন শিল্প।
ফ্যাশন শিল্পের বিস্তার ও গ্রহণযোগ্যতা একটা সময় ছিল, যখন মানুষ তার দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো নিয়েই শুধু ভাবত। ফ্যাশন এবং এ ধরনের তুলনামূলক কম প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে ভাবার সময় বা সুযোগ তাদের ছিল না। সময় যত গড়াল, ততই বদলাল মানুষের রুচি। মানুষ পুরোপুরি হয়ে উঠল ফ্যাশনসচেতন। আর ফ্যাশন হাউজগুলোও হয়ে উঠল আধুনিক থেকে আধুনিকতর। শুধু আধুনিক হয়ে ওঠাই নয়, ফ্যাশন শিল্পের বিস্তার ঘটল ইতিবাচকভাবে। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্রই ফ্যাশন শিল্পের জয়জয়কার, সবার কাছেই ফ্যাশন শিল্পের গ্রহণযোগ্যতা। এখন মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু বা বিষয়-আশয়কে যতটা গুরুত্ব দেয়, ঠিক ততটাই গুরুত্ব দেয় ফ্যাশনকে। তারই সুবাদে ফ্যাশন শিল্প এখন সত্যিকার অর্থেই বৃহত্তর একটি শিল্প। শুধুমাত্র তৈরি পোশাক নয় আমাদের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পকে পুর্নজীবিত হতে সাহায্য করেছে আধুনিক এই শিল্প। জামদানি, মসলিন, তাঁত, বেনারসির মত ঐতিহ্যবাহী শাড়িগুলোর বিপণন ও প্রসারে রাখছে ভূমিকা। এর পেছনে আমাদের ফ্যাশন ডিজাইনারদের রয়েছে অসামান্য অবদান। কয়েক লাখ মানুষের জীবিকার উৎস আমাদের আজকের ফ্যাশন শিল্পকে ঘিরে। এ শিল্পের অগ্রগতি দেখে সহজেই অনুমান করা যায়, ফ্যাশনে আমাদের দেশ একদিন সারা বিশ্বে সমাদৃত হবে।
সৃজনশীল ও সম্ভাবনাময় এই শিল্পের এগিয়ে চলার পথ কিন্তু মোটেও মসৃণ নয়। নানা প্রতিবন্ধকতা প্রতিহত করছে এর এগিয়ে চলার পথ। ব্যাহত হচ্ছে এর উন্নয়নের প্রত্যাশা। অন্য সব শিল্পের মতো এরও কিছু সমস্যা থাকবেÑ এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যা যদি এত বড় হয় যে, শিল্পটাই হুমকির মুখে পড়ে যেতে পারে, তাহলে কিছুটা আশঙ্কা সৃষ্টি হয় বৈ কি। ফ্যাশন এন্টারটেইনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশÑ এর সভাপতি আযহারুল হক আযাদ বলেন, ‘ফ্যাশন শিল্পের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিদেশী কাপড়ের অবাধ প্রবেশ। আমাদের দেশের ক্রেতারা যেভাবে দেশে তৈরী কাপড় ছেড়ে বিদেশের কাপড়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছেন, তাতে আমাদের ফ্যাশন শিল্প পড়ে যাচ্ছে হুমকির মুখে। এই অবস্থা চলতে থাকলে একটা সময় দেখা যাবে কেউ আর দেশী পোশাক বা পণ্য কিনছে না। যা আমাদের ফ্যাশন শিল্পের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। তখন এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব হয়ে পড়বে।’ বাজারজাতকরণ নিয়েও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় ফ্যাশন শিল্পকে। দেখা যায় সব হাউজের সব পণ্য সব জায়গায় পাওয়া যায় না। বা সব জায়গায় সবার শোরুম নেই। এতে মানুষ সহজে যে পণ্যটি পেয়ে যায়, সেটিই কিনে ফেলে। সেটি মানহীন কোনো দেশী পোশাকও হতে পারে, বিদেশীও হতে পারে। এ ছাড়া শুল্কনীতিও ফ্যাশন শিল্পের উত্তরণের পথে একটি অন্তরায়।
শুধু সমস্যার কথাই বলেননি আযহারুল হক আযাদ বলেছেন সম্ভাবনার কথাও। তিনি বলেন, আমাদের দেশে ১৭ কোটি মানুষ আছে। এই যে বিশাল জনসংখ্যা, এই জনসংখ্যাই হতে পারে আমাদের ফ্যাশন শিল্পের জন্য আশীর্বাদ। এ জন্য নিজেদের সততার পরিচয় দিতে হবে। শুধু ব্যবসার জন্য ব্যবসা নয়, ভালো পণ্যটি দায়িত্বশীলতার সাথে ক্রেতার হাতে তুলে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। রঙের স্বত্বাধিকারী বিপ্লব সাহার বক্তব্যও প্রায় একই, ‘মানুষ এখন ফ্যাশনসচেতন। তাই সবচেয়ে আধুনিক ফ্যাশনটি যদি তাদের সামনে উপস্থাপন করা যায়, তাহলে তারা বেশি দামের বিনিময়েও সেটি গ্রহণ করবে। আর এভাবেই এগিয়ে যেতে থাকবে আমাদের ফ্যাশন শিল্প।’ সবশেষে এটাই বলা যায়, গুণগত মান বজায় রাখতে পারলে ফ্যাশন শিল্পকে বহু দূর এগিয়ে নেয়া সম্ভব। আর অন্যদের সাথে পাল্লা দিয়েও গ্রহণযোগ্য করে তোলা সম্ভব আমাদের দেশের পোশাককে।
ফ্যাশন শিল্পকে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজন স্বদেশী পণ্যের প্রতি আমাদের সবার আগ্রহ তৈরি করা। তবেই বিশ্ব দরবারে আমাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব।

Check Also

গামছায় ফ্যাশন

আমাদের দেশীয় বস্ত্রশিল্পের একটি উল্লেখযোগ্য অনুষঙ্গ গামছা। স্বকীয় বুননশৈলী, নকশা ও রঙের ব্যবহারে গামছার রয়েছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *