Thursday , June 29 2017
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
Home / ফ্যাশন / ফ্যাশনে টাই ডাই

ফ্যাশনে টাই ডাই

টাইডাই ফ্যাশন জগতে খুবই জনপ্রিয় একটি শব্দ। টাইডাই করা কাপড় দিয়ে তৈরী পোশাক অনেক বছর আগেই আমাদের ফ্যাশন জগতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। টাইডাইয়ের এই ফ্যাশন আজকাল আবার বেশ আলোচিত ফ্যাশনপ্রিয় লোকজনের কাছে।

টাইডাই করা শাড়ি, ওড়না, সালোয়ার, কামিজ শুধু নয়, ছেলেদের পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্টও পাওয়া যাচ্ছে। তবে এখন শুধু টাইডাই করা কাপড়ে নয়, এর সাথে যোগ হচ্ছে অন্য মিডিয়াম। যেমন টাইডাই করা কাপড়ে ব্লক, কারচুপি, এমব্রয়ডারি প্রভৃতি কাজ ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন পোশাক। এবছরের মিলান ফল ফ্যাশন শোতে উপস্থাপিত টাই ডাই করা পোশাক সবার নজর কাড়ে।
১৯৬০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম কাপড় রঙ করার এই টেকনিক বা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। কাপড় ডাই করার সাধারণ পদ্ধতি থেকে আলাদা এই রঙ করার প্রক্রিয়া। উজ্জ্বল রঙের কম্বিনেশন, বোল্ড প্যাটার্ন, ডিজাইনে বৈচিত্র্য প্রভৃতি টাইডাই করা কাপড়ের মূল বৈশিষ্ট্য। সেই সময় স্পাইরাল, ম্যানডালা, পিস সাইন, মাল্টিপল কালার প্রভৃতি ডিজাইনে করা হতো টাইডাই। সত্তর ও ষাটের দশকে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠে টাইডাই করা কাপড়। এখন অবশ্য টাইডাই প্যাটার্ন আর সেই রকম নেই। সফিস্টিকেটেড কালার ও মোটিফ এখন বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে টাইডাইয়ের ক্ষেত্রে। ম্যাটারিয়ালেও এসেছে পরিবর্তন। একসময় মূলত সুতির কাপড় ব্যবহৃত হলেও এখন বিভিন্ন ফ্যাশনেবল ফেব্রিক্স ব্যবহার করা হচ্ছে টাইডাই করার জন্য। ফ্যাশন ডিজাইনারেরা টাইডাইকে শুধু রঙের পদ্ধতি হিসেবে নয়, তার চেয়ে বেশি আর্ট বা চিত্রকর্ম হিসেবে তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন।
আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়াসহ সব মহাদেশেই টাইডাই করা কাপড়ের প্রচলন রয়েছে। প্রথম দিকে টাইডাইয়ের ডিজাইন ছোট ছোট সার্কেল ও লাইনে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন বড় ডিজাইনই বেশি চলে। জাপান ও ইন্দোনেশিয়ায় শিরোরি নামে পরিচিত এক ধরনের টাইডাই করার টেকনিক বা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ইন্দোনেশিয়ার ব্যবহৃত শব্দ হচ্ছে প্লানগি ও ট্রিটিক। ভারতে এই শব্দটি ‘বাঁধুনি’ হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া কোথাও কোথাও একে ‘ইককত’ বলা হয়। থাইল্যান্ডে টাইডাই করা হয় অন্যদের থেকে কিছুটা আলাদাভাবে। এখানে টাইডাইয়ের কাপড়ের বেজ কালার থাকে মূলত কালো।
টাইডাইয়ে বিভিন্ন ধরনের ডাই ব্যবহার করা হয়। যেমন- ঘরোয়া ডাই, সুতা, এসিড, ভাট ডাই প্রভৃতি। কয়েকটি ধাপে টাই ডাই করার কাজটি করা হয়।
আমাদের দেশে ফ্যাশন হাউজ অরণ্য প্রাকৃতিক রঙ দিয়ে কাপড়ে ডাই করার কাজ করে থাকে। ভেজিটেবল ডাই হিসাবে খ্যাত অরণ্যের তৈরি করা এসব পোশাক ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে বিশেষ সমাদৃত।
ফ্যাশন হাউস চরকার ডিজাইনার ও নির্বাহী জাভেদ কামাল জানালেন, এ সময়ের ফ্যাশনে টাই ডাই বেশ চলছে। তবে এর ধরণে, ডিজাইনে ও রঙের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে। একই ডিজাইনের বদলে দুই-তিন ধরনের টাই ডাই ব্যবহার করে করা হচ্ছে ফ্যাশনাবল পোশাক। যেমন হাতায় চুনরি প্যাটার্ন ব্যবহার করা হলে বডিতে থাকচে লম্বা বা বড় ডিজাইনের টাই ডাই। বাটন ছাড়াও সিল্ক, সিফন লিলেনে করা হচ্ছে টাই ডাই। কখনো সালোয়ার ও ওড়নায় টাই ডাই করে কামিজটা রাখা হচ্ছে প্লেন। এখনকার ফ্যাশনে সিঙ্গেল কামিজ, ফ্রক ডিজাইন, থ্রি পিসেই বেশি করা হচ্ছে টাই ডাই। এছাড়া চরকায় টাই ডাই করা থান কাপড়, বেড কভার ও অন্যান্য গৃহসজ্জার সামগ্রীও পেয়ে যাবেন।

Check Also

‘শরীর সুন্দর, একে ঢেকে রাখতে হবে কেন?’

‘নগ্নতা আমাদের প্রকৃতিগত, নগ্নতাই মানুষকে মানুষ করে তোলে। আর শরীর সুন্দর, একে ঢেকে রাখতে হবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *