Sunday , August 20 2017
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
Home / লাইফস্টাইল / নারী হিসেবে যে কথাগুলো অবশ্যই মনে রাখা উচিত আপনার

নারী হিসেবে যে কথাগুলো অবশ্যই মনে রাখা উচিত আপনার

অতীত কিংবা বর্তমান- কোন সমাজেই নারী হিসেবে বেড়ে ওঠাটা খুব একটা সহজ কাজ ছিল না। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপেই নারীদেরকে শিখতে হয় অনেক অনেক নিয়ম। মুখোমুখি হতে হয় অনেক সমস্যার। অর্জন করতে হয় নতুন অনেক অভিজ্ঞতা। কখনো সেটা দেখে, আবার কখনো ঠেকে। যেভাবেই হোক, কিছু ব্যাপার রয়েছে যেগুলো একজন নারী হিসেবে প্রত্যেকটি নারীরই উচিত জেনে রাখা। আর এমন কিছু অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতার কথাই তুলে ধরা হল আজকের ফিচারে।

১. নিজেকে শোনা
প্রতি নারী ও পুরুষের চারপাশেই অনেক অনেক মানুষ থাকে যাদের কাজই হয় উপদেশ দেওয়া। কী করে কোন কাজটা করতে হবে, কোনটা ভালো হবে, কতটা করলে ভালো হবে সেটা সম্পর্কে নিজেদের ধারণা বলা এবং সেটা অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। আমাদের সমাজে নারীদের ওপর ব্যাপারটা বিশেষ করে একটু বেশিই হয়। কিন্তু যদি জীবনে ভালো কিছু করতে চান তাহলে এসব মানুষ ও তাদের কথাকে এড়িয়ে নিজেকে শুনুন। আপনি কী করতে চান? আপনার কোনটা ভালো মনে হচ্ছে বা ভালো লাগছে সেটা বুঝে পা ফেলুন। কারণ শেষ অব্দি জীবনটা কিন্তু আপনারই!

২. নিজের যত্ন নেওয়া
জীবনে ভালো কিংবা খারাপ সময় আসবেই। কিন্তু সেজন্যে কখনোই নিজের শরীর ও মনের প্রতি অবহেলা করবেননা। কারণ এটা সেই জিনিস যা শুধুই আপনার। আর এগুলোর ভালো থাকা কিংবা খারাপ থাকাও সবচাইতে বেশি প্রভাবিত করবে আপনাকেই। আর তাই আর সবকিছুর সাথে সাথে নিজের শরীরের যত্ন নিন। পুষ্টিকর খাবার, যথেষ্ট পরিমাণ পানি, পর্যাপ্ত ঘুম, গান শোনা, বেড়াতে যাওয়া, গল্প করা- যেভাবেই হোকনা কেন নিজের শরীর আর মনের যত্ন নিন। কারণ শরীর আর মন একটা করে আছে আপনার কাছে। একবার চলে গেলে তাই ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই-ই বলতে গেলে। সুতরাং, সময় থাকতে এই জিনিসগুলোর কদর করুন।

৩. নারীবাদী ও ইতিবাচক হওয়া
প্রতিটি নারীরই উচিত নিজেকে অন্য কারো চাইতে ছোট করে না দেখা। সবাইকে সমান সমর্থ বলে মনে করা। আর তাহলেই কেবল নিজের প্রতি সুবিচার করা হবে। নিজেকে চিনুন। এমনটা নয় যে নারীবাদী হওয়া আর ইতিবাচক হওয়া দুটো সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার। আর তাই ইতিবাচকভাবে নারীবাদী হয়ে উঠুন।

৪. অন্যের আলোচনা না করা
বলা হয় মহৎ প্রাণেরা ধারণা নিয়ে আলোচনা করে, মধ্যম প্রাণেরা ঘটনা নিয়ে আলোচনা করে আর নীচু প্রাণেরা অন্যকে নিয়ে আলোচনা করে। শুনতে বেশ খারাপ হলেও কথাটা সত্যি যে আমাদের দেশের নারীদের অনেকেই অন্যের সম্পর্কে আলোচনায় ব্যস্ত থাকেন অনেকটা সময়। ফলে তাদের নীচু মানসিকতা যেমন প্রকাশ পায়, তেমনি হারিয়ে ফেলেন তারা উন্নত চিন্তা আর মূল্যবান সময়কে। মূলতঃ এসব বাদেও আরো হাজারটা ব্যাপার আছে আলোচনা করবার। এবং অনেকেই সেটা করছেন। আর তাই তাদের মতন হয়ে ওঠার চেষ্টা করুন। সময় আর মেধাকে কাজে লাগান।

৫. সাহায্য চাওয়া
হয়তো কোন ব্যাপার আটকে গেলে সাহায্য চাইতে দ্বিধা লাগছে আপনার। কিন্তু সেটা একেবারেই ঝেড়ে ফেলুন। কোন মানুষই সবকিছু করবার ক্ষমতা রাখেনা। আজকে আপনি হয়তো কোন ব্যাপার আটকে গিয়েছেন। কালকে আরো কেউ হয়তো আটকাবে আর আপনার কাছে সাহায্য চাইবে। আর তাই যে কোন ব্যাপারে অন্যের সাহায্য চাইতে লজ্জাবোধ করার কিছু নেই।

৬. জীবন গতিশীল
শেষ পর্যন্ত সবকিছুই ঠিক হয়ে যাবে। আর যদি না হয় তাহলে সেটা শেষ নয়।– জন লেনন।
কথাটাকে ভালোভাবে নিজের ভেতরে গেঁথে নিন। জীবনের এমন অনেক সময় আসবে যখন মনে হবে সময় বুঝি কাটবেনা। বাকিটা জীবন হয়তো এমনভাবেই চলবে। জীবন অসহ্য হয়ে ওঠে এসময় অনেকের কাছে। ফলে তারা বেছে নেন জীবনকে শেষ করে দেওয়ার মতন অনেক উপায়। কিন্তু বিশ্বাস করুন জীবন কখনোই একটা জায়গাতে বেশিদিন আটকে থাকেনা। সেটা আবার পাল্টে গিয়ে একটা সময় সবকিছু ঠিক হয়ে যায়। আপনার সাথে যা হয়েছে বা হচ্ছে সেটাও ঠিক হয়ে যাবে। ততক্ষণ পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করুন। কে জানে, পাল্টে যাওয়া জীবনে হয়তো চাওয়ার চাইতেও বেশি ভালোকিছু পাবেন আপনি!

৭. নিজেকে খুশি করা
জীবনে চারপাশে অনেক মানুষকে পাবেন আপনি। তাদের থাকবে অনেক রকমের চাওয়া। তাও আবার আপনার কাছ থেকে। প্রতিটা দিন আপনি হয়তো ভেবে ভেবে অস্থির হয়ে উঠবেন কি করে সবার চাওয়ার সাথে তাল মিলিয়ে চলা যায়। আর সেই মানুষগুলো ভাববে আপনি আসলে কোন কাজেরই না। একটু থামুন! কী করছেন আপনি? অন্যের চাওয়ার জন্যে নিজেকে আর নিজের জীবনকে নষ্ট করছেন কেন? অনেক মানুষের অনেক রকমের চাওয়া থাকবেই। তাই বলে সবার মন রক্ষা করতে পারবেননা আপনি। আর তাই সেটাই করুন যেটাতে আপনি নিজেকে খুশি রাখতে পারবেন। কখনো যদি কেউ আপনার ওপর অসন্তুষ্ট হয় তাহলে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। নিজেকে পাল্টানোর নয়!

Check Also

সন্তানকে যে কারণে মারবেন না

দু-চারটা চড়-থাপ্পড় না খেলে নাকি সন্তান মানুষ হয় না। এমন কথা প্রচলিত আছে। কিন্তু অতিরিক্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *