Monday , September 25 2017
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
Home / লাইফস্টাইল / ঘরেরও চাই ঈদের সাজ

ঘরেরও চাই ঈদের সাজ

সুমনা সারা বছর ঈদের দিনটির জন্য অপেৰা করেছিল- তার ইচ্ছে ছিল এবার ঈদে বসার ঘরের পুরনো আসবাব বদলে নতুন একসেট কিনবে। কারণ বছরের অন্যান্য সময় আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের বাসায় যেমন যাওয়া হয়েই ওঠে না, তেমনি তারাও আসে না। শুধু ঈদ এবং তার পর ছুটির দিনগুলোতে বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের অনবরত আনাগোনা হয়। আর বসার ঘরেই হয়ে ওঠে মিলনমেলা। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের কারণে অনিতার নতুন আসবাব কেনা হয়ে উঠল না। তখন সে আসবাবগুলোকে রং করিয়ে রদবদল করে বসিয়ে এবং ঘরের সাজে ফুল ব্যবহার করে ঘরটিতে নিয়ে আসে নতুনত্ব। আপনিও তাই করতে পারেন।

কীভাবে করবেন
প্রথমেই কার্পেট পরিষ্কার করে নিন। যদি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার থাকে, সেটাই ব্যবহার করম্নন। তবে আগে কড়া রোদে কার্পেট শুকিয়ে ঝেড়ে নিন। বেশি ময়লা মনে হলে যারা কার্পেট ধোয় তাদের কাছে ধোলাই করে নিন।
আসবাব কাঠের হলে পলিশ বা রং করিয়ে নিন। পলিশ করা সম্ভব না হলে এক টুকরো পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে কেরোসিন তেল নিয়ে আসবাব ঘষুন। আসত্মে আসত্মে ঘষবেন এতে আসবাব নতুনের মতোই ঝকঝকে হয়ে উঠবে। এবার আসবাবগুলো একটু রদবদল করে বসিয়ে নিন। ঘর সুন্দর করে তোলার অন্যতম রসদ হচ্ছে সুন্দর পর্দা। সুন্দর ছাপা, তাঁতের চেক অথবা হ্যান্ডপ্রিন্ট তো আছেই, একরঙা কাপড়ের পর্দা ঘরে অভিনবত্ব আনে। ঝালর দেয়া পর্দা দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে নেবেন।

এবার ঘরের সাজে নাটকীয় পরিবর্তন আসতে ব্যবহার করুন ফুল।
ফুলের ভাষা নেই কিন্তু আছে প্রাণের স্পন্দন।
সেই প্রাণের স্পন্দনের সাড়া পেয়ে কবি লিখেছিলেন, ‘ফুল বলে ধন্য আমি মাটির পরে …।’
নাম না জানা একটি হলুদ ফুল দেখে বুদ্ধদেব গুহ লিখেছিলেন, ‘ফুলটি একটি কিশোরী মেয়ের স্বপ্নের মতো, যে স্বপ্ন এখনও ঝরে যায়নি।’ ফুল আমাদের প্রেম, আনন্দ, শোক-বন্ধুত্ব, জন্মদিন, বিয়ে এবং উৎসব_ যে কোন অনুভূতি প্রকাশে, যে কোন উৎসবে ফুলের জুড়ি নেই। কোন কথা না বলে অনেক কথাই বলে দিতে পারে ফুল। আর ফুলের সজ্জায় ঘর হয়ে ওঠে অনিন্দ্যসুন্দর।

ঘরের কোণে সাইড টেবিলে বা সেন্টার টেবিলের মাঝখানে সুদৃশ্য ত্রিস্টাল, কাঁচ কিংবা পোরসেলিন বা পস্নাস্টিক বা মাটির নকশা করা ফুলদানিতে তাজা ফুল রাখুন। তাজা ফুলের আবেদনই আলাদা। তাজা ফুলের মধ্যে কচুরিপানা ফুল ঘরের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়। ‘বার্ডস অব প্যারাডাইস’ ফুলকে ব্যবহার করম্নন। ময়ূরের পেখমের মতো। যা দেখেই মনে পড়বে ‘পিক কিবা কুঞ্জে কঞ্জে’…।

এনথুরিয়াম ফুলও ব্যবহার করতে পারেন। ঝাউপাতার সঙ্গে একগুচ্ছ কারনেশন কিংবা অন্য যে কোন ফুলের সমন্বয়ে ফুলের তোড়া তৈরি করে ফুলদানিতে রাখুন। গোলাপ ফুলের রানী। একগুচ্ছ লাল গোলাপের কুড়ি কিংবা রজনীগন্ধার স্টিক কেবল ঘরের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, ফুলের সুগন্ধে ঘরের পরিবেশও থাকে সি্নগ্ধ।
তাজা ফুলের এ্যারেঞ্জমেন্টের সঙ্গে সঙ্গে ড্রাই ফুলের এ্যারেঞ্জমেন্টও অত্যনত্ম আকর্ষণীয়। ড্রাই এবং ফ্রেশ ফুল দিয়ে সাজান আপনার ঘর। ফ্রেশ ফুল দিয়ে সুন্দরভাবে সাজানো ফুলদানির ফুল যখন শুকিয়ে যায়, তখন মন খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু ড্রাই ফুল যেমন অনেকদিন থাকে, আবার একটু ধুলো পড়লে সহজেই ঝেড়ে অথবা ধুয়ে নেয়া যায়। তাই কিছু ফুলদানিতে ড্রাই ও কিছু ফুলদানিতে ফ্রেশ ফুল রাখুন। তাজাফুল শুকিয়ে গেলেও ড্রাই ফুল আপনার ঘরের সৌন্দর্য রৰা করবে। কেবল ফুল নয় ঘরের সাজে গাছও ব্যবহার করতে পারেন। বারান্দায় রাখা টবগুলো থেকে দু’একটা টব ঘরে রাখতে পারেন। ক্যাকটাস, পাতাবাহার, পাম ছাড়াও ফুলওয়ালা টব হলে ভাল। তবে নোংরা বা শ্যাওলা মলিন হওয়া টব রাখবেন না। টবগুলোকে লাল কিংবা মেটে রং বা আপনার কার্পেট ও সোফার কভারের রঙের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে নতুন করে রং করে দরজার দু’পাশে রাখলে ভাল লাগবে।
যেভাবেই ঘর সাজান না কেন দেশীয় ভাবটা বজায় রাখতে চেষ্টা করুন।

Check Also

১৫ কোটি টাকার অন্তর্বাস!

বিচিত্র এই দুনিয়ায় আর কী দেখতে ইচ্ছে করে। দিনদিন অবাক করা কাণ্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে মানুষ। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *